Skip to main content

রমজান মাসের ৩০ টি আমল

 রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই মাসে প্রতিদিন একটি করে ভালো আমল করার পরিকল্পনা করলে আমাদের আমলনামা আরও সমৃদ্ধ হবে, ইনশাআল্লাহ।


এখানে রমজানের প্রতিদিনের জন্য ৩০টি আমল দেওয়া হলো, যা আপনাকে রমজানকে আরও অর্থবহ করতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

প্রথম ১০ দিন: রহমতের দশক

রমজানের প্রথম দশ দিন আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইবাদত করে তাঁর রহমত লাভের চেষ্টা করা উচিত।

১. রোজার নিয়ত ও ইখলাস দৃঢ় করা

প্রত্যেক রোজার শুরুতে নিয়ত করুন এবং দৃঢ় সংকল্প করুন যে, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রোজা রাখছেন।

২. প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করা

রমজান কুরআনের মাস। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করুন এবং তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন।

৩. ফজরের পর কিছু সময় যিকির করা

ফজরের নামাজের পর অন্তত ৫-১০ মিনিট—

সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার (১০০ বার)

আস্তাগফিরুল্লাহ (১০০ বার)

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (১০০ বার)

পড়া অভ্যাস করুন।

৪. নিয়মিত দরুদ শরিফ পাঠ করা

রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।" প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ করুন।

৫. গরিব-দুঃখীদের ইফতার করানো

যার সামর্থ্য আছে, সে যেন গরিবদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে। এটি রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।

৬. মা-বাবার খেদমত ও দোয়া করা

যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের খেদমত করুন। যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের জন্য দোয়া করুন।

৭. প্রতিদিন ২ রাকাত নফল নামাজ পড়া

নিয়মিত তাহাজ্জুদ, সালাতুত তওবা ও সালাতুল হাজত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৮. গুনাহ থেকে বাঁচার সংকল্প করা

নিজের কোনো একটি খারাপ অভ্যাস শনাক্ত করুন এবং তা থেকে মুক্তির জন্য কাজ করুন।

৯. মানুষের প্রতি সদয় হওয়া

রমজানে হাসিমুখে কথা বলা, ক্ষমা করা ও ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

১০. আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা

অভিমান বা দূরত্ব থাকলে তা মিটিয়ে ফেলুন। ফোন করুন, বার্তা পাঠান, বা সাক্ষাৎ করুন।

মধ্যের ১০ দিন: মাগফিরাতের দশক

এই সময়টি আল্লাহর ক্ষমা লাভের জন্য। বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তওবা করার মাধ্যমে গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

১১. প্রতিদিন ১০ আয়াত কুরআন তিলাওয়াত করা

ছোট হলেও প্রতিদিন কুরআন পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

১২. তাহাজ্জুদ নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা

রাতে কিছুটা সময় ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করুন এবং তাহাজ্জুদ পড়ুন।

১৩. প্রতিদিন সদকা করা

এক টাকা হলেও প্রতিদিন দান করুন।

১৪. তওবা ও ইস্তিগফার করা

অন্তত ১০০ বার "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়ার চেষ্টা করুন।

১৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা

"সবচেয়ে শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" - রাসুল (সা.)

১৬. প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া

তাদের কোনো প্রয়োজন থাকলে সাহায্য করুন।

১৭. কর্মক্ষেত্রে সততা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা

অফিস বা ব্যবসায় প্রতারণা বা অসততা থেকে দূরে থাকুন।

১৮. ইসলামিক বই পড়া বা ওয়াজ শোনা

নবীজির (সা.) জীবনী, রমজানের ফজিলত, জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে জানুন।

১৯. সালামের প্রচলন করা

সালাম বলা ও উত্তম ব্যবহারে অভ্যস্ত হোন।

২০. ছোটদের প্রতি দয়া, বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা

শেষ ১০ দিন: নাজাতের দশক ও লাইলাতুল কদর

এই সময় জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য বিশেষভাবে ইবাদতে মনোযোগী হওয়া উচিত।

২১. ইতিকাফ করা

যদি সম্ভব হয়, শেষ ১০ দিনে মসজিদে ইতিকাফ করুন।

২২. লাইলাতুল কদরের খোঁজ করা

২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ তারিখ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করুন।

২৩. বিশেষ দোয়া: "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন"

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

(এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়ুন)

২৪. চোখের পানি ফেলে গুনাহ মাফ চাওয়া

আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে তওবা করুন।

২৫. রমজানের পরও ভালো অভ্যাস বজায় রাখার পরিকল্পনা করা

২৬. সাহরির সময় বিশেষ দোয়া করা

সাহরির সময় দোয়া কবুল হয়, তাই ইবাদতে সময় দিন।

২৭. ইফতারের আগে দোয়া করা

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়।

২৮. গরিবদের জন্য ঈদের নতুন পোশাক বা সাহায্য দেওয়া

২৯. জান্নাত লাভের আকাঙ্ক্ষায় আমল করা

৩০. ঈদের প্রস্তুতিতে গরিব-দুঃখীদের খেয়াল রাখা

Comments

Popular posts from this blog

অল্প বয়সে উচ্চ রক্ত চাপ

অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপের কারন হচ্ছে বদভ্যাস এবং অতিরিক্ত ফাস্টফুড । এখন   অল্পবয়সের মধ্যে  উচ্চ রক্তচাপের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে । আর এর মূল কারন অতিরিক্ত ওজন, দুর্বল শরীর, পুষ্টির অভাব এবং এরই সাথে রয়েছে ব্যায়ামের অভাব । উচ্চ রক্তচাপ শুধু যে বয়স্ক মানুষের হয় তেমনটা নয় গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীর মধ্যে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়। একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপের পরিমাপ ১২০/৮০ হয় । বয়সের সাথে সেটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যাদের রক্তচাপের পরিমাপ ১৩০/৯০ কিংবা ১৪৫/১০০ সে সমস্ত ব্যক্তিদের উচ্চ রক্তচাপ থাকে।                     উচ্চ রক্তচাপের জন্য যে সমস্ত সমস্যা হতে পারে বা যে সমস্ত লক্ষণ  শরীরে দেখা যায়  শরীরের জন্য বেশ বিপজ্জনক হতে পারে যদি এটি দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণে না থাকে। এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যা, চোখের সমস্যা, এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।   অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপ হলে কোন বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে  সর্বপ্রথম শরীরের ওজন...